গত শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দলটির মহাসচিব এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে দল ও দলের বাইরে বঙ্গভবনের পরবর্তী অধিবাসী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে পছন্দের শীর্ষে। বিএনপির একটি বড় অংশও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতির আসনে দেখতে চায়। আগামী ১ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭৭ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, দলটির দীর্ঘ দুঃসময়ে শত শত মামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও অত্যন্ত ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন’ ইমেজসম্পন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি সমাদৃত। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য অন্যতম যোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই বর্ষীয়ান নেতার পারিবারিক ইতিহাসও বেশ বর্ণাঢ্য। তাঁর বাবা মরহুম রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও আইনমন্ত্রী। মির্জা ফখরুল নিজে ১৯৭২ সালে শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মতে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিএনপির এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা উচিত, যিনি প্রাজ্ঞ, সৎ এবং সংকট মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা মনে করেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে মির্জা ফখরুলের মতো একজন পরীক্ষিত রাজনীতিবিদই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি।
এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া ও তফসিল ঘোষণার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জেএইচআর