বিএনপি সরকারের ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক সংস্কার হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতাবিবর্জিত। তার দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর মধ্য দিয়ে এমন উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন।
সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে। কিন্তু বর্তমান বাজেটের রূপরেখায় সেই ধরনের কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাজেটে সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেটের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হয়। বিভিন্ন কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রেও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপের উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে এ বাজেট কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এম জি