বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের এই ম্যাচে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে ফুটবল বিশ্বে।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক বাঁকানো শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং ম্যাচের শেষভাগে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার ঠিক আগে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
তখন আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। মাঠের এক প্রান্তে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ের পেছনের অংশে মেসির বুটের স্টাড আঘাত করে। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করলেও এটিকে গুরুতর ফাউল হিসেবে বিবেচনা না করায় লাল কার্ডের কোনো সুপারিশ আসেনি।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলজেরিয়ার সমর্থকসহ সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অন্য কোনো ফুটবলার এমন ফাউল করলে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতো কি না। ইএসপিএনের বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো মোরেনো ম্যাচ শেষে মন্তব্য করেছেন, ঘটনাটি শতভাগ লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। এতে করে তারকা খেলোয়াড়দের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার ধারণাটি আরও জোরদার হলো।
বিতর্ক থাকলেও এই ম্যাচে মেসি একাধিক নতুন কীর্তি গড়েছেন। দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ছয় আসরে ১৫ গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসান। আর হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, যা তাকে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ডের চূড়ায় বসিয়েছে। গত বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হোঁচট খেলেও এবার মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সহজ জয় দিয়েই অভিযান শুরু করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জেএইচআর