২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। গত রোববার মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে হেক্সা মিশনে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সেলেসাওরা।
তবে ব্রাজিল শিবিরে এখন কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইছে, কারণ ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডের সাথে অবশেষে হালকা অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কের বাইরে দলের বেস ক্যাম্পে চোট পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো বল পায়ে মাঠে দেখা গেছে নেইমারকে।
তবে সেলেসাও ভক্তদের জন্য এখনই পুরোপুরি স্বস্তির খবর নেই, কারণ এখনও ম্যাচ ফিটনেস থেকে বেশ দূরে রয়েছেন তিনি। ফলে হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের খেলা নিয়ে বড় দ্বিধা রয়েছে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফে চোট পেয়েছিলেন নেইমার। সেই জটিল ইনজুরি নিয়েই তিনি কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ দেন।
গত সোমবার তার চোটের সর্বশেষ অগ্রগতি বুঝতে বেশ কিছু মেডিকেল টেস্ট ও স্ক্যান করানো হয় টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে এবং এরপর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত অনুশীলনে নামেন তিনি।
মাঠে ফিরলেও ৩৪ বছর বয়সী নেইমার দলের মূল স্কোয়াডের সাথে এখনো পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সেশনে অংশ নেননি।
কারণ, হাই-ইনটেনসিটি অনুশীলনে যোগ দেওয়ার মতো ফিটনেস এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি তিনি।
তাই ফিটনেস ফিরে পেতে আপাতত হালকা রানিং এবং শারীরিক কন্ডিশনিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তার দৈনন্দিন অনুশীলন। আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে পয়েন্ট হারানোর পর এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।
তবে দলের অভিজ্ঞ মেডিকেল টিমের পরামর্শ অনুযায়ী নেইমারকে নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে নারাজ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে বেঞ্চে বসেই সতীর্থদের মানসিকভাবে উৎসাহ দেবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
কোচ আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য- নেইমারকে শতভাগ ম্যাচ ফিট করে পরবর্তী নকআউট ম্যাচগুলোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা। সবশেষ ২০২৩ সালে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার।
সেবার উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল এবং মেনিসকাসের মারাত্মক চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সেই দীর্ঘ চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কাটিয়ে চলতি বিশ্বকাপ দিয়েই আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এই ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয়।
নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন মাঠের বাইরের লড়াইয়ে সেলেসাওদের মনোবল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এএন