বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জমে ওঠা লড়াইয়ের শেষ হাসি হেসেছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর স্নায়ুচাপের এই লড়াইয়ে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে।
বোস্টনের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখায় জার্মানি। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। বরং প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে।
জর্জ কাসেরেস বলের দখল ধরে রাখার পর মিগুয়েল আলমিরন ও মাতিয়াস গালারজার দারুণ সমন্বয়ে তৈরি হয় আক্রমণ। গালারজার নিখুঁত ক্রসে ৪২তম মিনিটে জুলিও এনসিসো হেডে বল জালে পাঠিয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। অবশেষে ৫৪তম মিনিটে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের বাড়ানো বল দারুণ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি।
এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ পেলেও আর গোল আদায় করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়েও গোলশূন্য থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
সেখানে শুরুতেই বিপাকে পড়ে জার্মানি। প্রথম শটেই কাই হাভার্টজের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল। পরে নিক ওলটেমাডেও শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করলে চাপে পড়ে ইউরোপের দলটি।
অবশ্য প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়ার শট রুখে দিয়ে আশা জাগান জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার। এরপর নাদিম আমিরি গোল করায় পাঁচ শট শেষে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। কারণ শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার শটও ঠেকিয়েছিলেন নয়্যার।
হঠাৎ করেই বদলে যায় দৃশ্যপট। সাডেন ডেথে জোনাথান তাহ গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি হোসে কানালে। তার সফল শটেই ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১০৫তম মিনিটে জার্মানি একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।