আব্দুল্লাহ আল নাঈম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ নেই এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার বিষয়েও বিদেশিরা কোনো সুপারিশ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, কেউ এসে আমাদের বলছে না যে আওয়ামী লীগকে ইলেকশনে নিয়ে এসো। আওয়ামী লীগ গুম, খুন ও ডাকাতির যে রাজত্ব কায়েম করেছিল, তা পুরো পৃথিবীবাসী জানে। তাই তাদের সুযোগ দেওয়ার কথা কেউ বলছে না। বলার সেই সুযোগ তো আওয়ামী লীগই রাখেনি।
শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ কি এসে ক্ষমা চেয়েছে বা অনুতপ্ত হয়েছে? উল্টো তারা বলছে ৩ হাজার পুলিশ মারা হয়েছে। যারা আন্দোলনে নেমেছিল, তাদের সব জঙ্গি আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
নামকরা সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ খান বলেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান যে পলিসি নিয়েছিলেন তাতে তখন সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে রাজাকার বলা হয়েছিল। আর শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরো বাংলাদেশের মানুষকে জঙ্গি বলেছে। এসব শুনলে তাদের প্রতি কি কারও মিনিমাম সম্প্রীতি থাকে?
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকরাও ভোট দিতে পারেনি, তাদের ভোট পুলিশ দিয়ে দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের লোকরাও তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা আসছে ইউটিউব ও টিকটক থেকে। কিছু লোক ভিউ কামানোর জন্য এসব করছে। আমি বলব, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা একেবারেই অমূলক। সংস্কারের বিষয়টি প্যাকেজ আকারে ‘হ্যাঁ’ ভোটে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত। এ সময় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার সকালে প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছেন।
তিনি আখাউড়া খড়মপুরস্থ শাহ সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (র.) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করেন এবং সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে তিনি তিতাস নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।
ইএইচ