Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪,

এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা

দিনাজপুর  প্রতিনিধি

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মার্চ ২৯, ২০২৪, ১২:৫০ পিএম


এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা

নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা। আবার দুই পায়ের স্থলে একটি মাত্র পা। এমন অদ্ভুত একটি শিশু পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে। ঘটনাটি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শালখুড়িয়া গ্রামের। অস্বাভাবিক হওয়া শিশুটিকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন পরিবারের লোকজনেরা।

এদিকে শিশুটির উন্নত চিকিৎিসার জন্য আজ বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বুধবার (২৮ মার্চ) বিকেলে বিরামপুর সিটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জমজ দুটি সন্তানের জন্ম দেন জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শালখুড়িয়া গ্রামের হত-দরিদ্র ভ্যান চালক মাহফুজুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। একসঙ্গে জমজ দুটি সন্তানের মধ্যে একটি স্বাভাবিক মেয়ে সন্তানের জন্ম হলেও অপর শিশুটির মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা নেই।

একইসঙ্গে এক পা নিয়ে জন্মায় অদ্ভুত এই শিশুটি। মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা না থাকায় শিশুটিকে কোন কিছু খাওয়ানো যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

শিশুর নানী মোছা. আক্তারা বেগম জানান, বুধবার বিকেলে বিরামপুরের একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে দুটি সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে এক মেয়ে শিশু সুস্থ্য আছে। অপর শিশুটির একটি পা নিয়ে জন্ম নেয়। পাশাপাশি তার মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা নেই। এই অবস্থায় শিশুটিকে রাতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। 

শিশুটির বাবা ভ্যান চালক মাহফুজুল ইসলাম জানান, গত বুধবার বিকেলে বিরামপুরের একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে জমজ দুটি সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে এক মেয়ে শিশু সুস্থ আছে। অপর শিশুটির একটি পা নিয়ে জন্ম নেয়। পাশাপাশি তার মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা নেই। আমার শিশু সন্তানের সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি গরীব মানুষ চিকিৎসা করানোর মত অর্থ নাই। তাই সরকারের কাছে তার সুচিকিৎসা সহ সব ধরনের সহযোগিতা চাচ্ছি।

সিজার অপারেশন করা বিরামপুরের গাইনি চিকিৎসক তাহেরা বেগম জানান, জেনেটিক্যাল সমস্যার কারণে জন্মগত ভাবে শিশুটির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অপারেশনের মাধ্যমে তার প্রস্বাব ও পায়ুপথ বের করা না গেলে শিশুটির বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তবে শিশুটির শরীরের অন্য অঙ্গগুলি যেমন মুখ, নাক, কান ও হাত স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে রেফার্ড করেছি।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফাতেমা ফারজানা জানান, গত বুধবার রাতে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তার মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা নেই এবং একটি মাত্র পা। শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। শিশুটির পেট ফুলা ছিল এবং  স্বাসকস্ট হচ্ছিল।

প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা যায় শিশুটি জন্মগত ভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাকে শিরাপথে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এই অবস্থায় অবিলম্বে তার মলদ্বার ও প্রস্বাবের জন্য একটা রাস্তা তৈরী করতে হবে। এই ধরনের জটিল রোগীর সাধানত দিনাজপুরে চিকিৎসা করা কঠিন। এজন্য আমরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। 

এদিকে বুধবার রাতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, শিশুটির জন্মের পরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও শিশুর পরিবারকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুর সকল বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

এইচআর

Link copied!