Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪,

নাটোরে রসুনের ব্যাপক আমদানি, কৃষকের মুখে হাসি

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোর প্রতিনিধি

এপ্রিল ২, ২০২৪, ০৫:৫৮ পিএম


নাটোরে রসুনের ব্যাপক আমদানি, কৃষকের মুখে হাসি

নাটোরের তেবাড়িয়া, মৌখরা, নলডাঙ্গা, শংকরভাগ, সিঙড়াসহ সবগুলো হাটেই সাদা সোনা খ্যাত রসুনের ব্যাপক আমদানি হয়েছে।

এবার একদিকে যেমন রসুনের উৎপাদন বেড়েছে অন্যদিকে দামের মন্দাভাব কেটে বেশি দাম পেয়ে খুশি নাটোরের কৃষকেরা।

বিগত ৩ বছর রসুনের দামের বেশ মন্দাভাব চলছিল। রসুন বিক্রি হতো ২শ টাকা থেকে ৬শ টাকা মণ। এ কারণে অনেক কৃষক রসুন উৎপাদন কমিয়ে অন্য শস্য আবাদে ঝুঁকেছিল। কিন্তু এ বছর সেই মন্দাভাব আর নেই। তাই কৃষকেরা এবার রসুনের আবাদ বেশি করেছেন।

প্রতি হাটেই ভালো ও বড় মানের রসুন বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গলবার শংকরভাগ হাটে দেখা যায়, ভালো ও বড় মানের রসুন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২শ টাকা মণ। আর নিম্নমানের রসুন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭শ টাকা মণ।

শংকরভাগ হাটে রসুন বিক্রি করতে আসা ভেদরার বিলের কৃষক জিয়ারুল, হারেছ, আয়চাঁন বলেন, গত কয়েক বছর রসুনের দাম কম ছিল। তখন অনেক লস করছি। এবার আল্লাহ্ চাইলে রসুনের দাম ভালো। আবাদও ভালো হয়েছে। দাম পেয়ে আমরা খুশি।

শংকরভাগ হাটের রসুনের আড়তদার মেসার্স নজরুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরগুলোতে রসুনের তেমন কোন চাহিদা না থাকায় রসুনের টান ছিল না। এবার রসুনের আমদানিও ব্যাপক। চাহিদা ব্যাপক থাকায় রসুনের টানও বেশি। তাই দামও বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে নাটোরে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১৮ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। সে হিসেবে ১৮ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির রসুন তোলা হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন হয়েছে ৭৮ হাজার ৯৭৩ মেট্রিকটন রসুন। গত ২০২২-২৩ মৌসুমে ১৬ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছিল। যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২৫৭ মেট্রিকটন রসুন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের রসুন আবাদে জড়িত কৃষকদের ভালো জাতের রসুন আবাদের পরামর্শ প্রদানের সাথে সাথে সার কীটনাশক প্রয়োগের সঠিক নির্দেশনা প্রদান করে থাকে। আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ পোকা দমনের পরামর্শও দিয়ে থাকে। তাই এবার রসুনের গুণগত মানও ভালোও হয়েছে। কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছে। সেই থাকে সাদা সোনা খ্যাত রসুনের সাথে সাথি ফসল হিসেবে উন্নত জাতের বাঙ্গী, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টা আবাদের পরামর্শও দেয়। এতে করে কৃষকেরা বাড়তি আয়ও করতে পারে তাই এবছর রসুনের আবাদে ঝুঁকেছে নাটোরের কৃষকেরা।  

ইএইচ

Link copied!