ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাড়ল সোনার দাম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

বাড়ল সোনার দাম

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকারও বেশি।

শনিবার সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত মূল্য সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তা বেড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। বিশ্ববাজারে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় বাজারেও সমন্বয় আনা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি নির্ভর স্বর্ণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দর বাড়লে তা সরাসরি স্থানীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়। ফলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি এড়াতে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে; ফলে বোঝা যাচ্ছে, সব ধরনের স্বর্ণের ক্ষেত্রেই একযোগে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে।

শুধু সোনার দামই নয়, রুপার বাজারেও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে রুপার সব শ্রেণিতেই একযোগে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। রুপার দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। স্বর্ণ ও রুপার আন্তর্জাতিক দর পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট GoldPrice.org–এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ মার্কিন ডলার। আগের দিন তা ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি স্বর্ণের দর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

বিশ্ববাজারে এই ধারাবাহিক ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ প্রবণতা এবং মুদ্রাবাজারের পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দর লাফিয়ে বাড়তে শুরু করলে দেশের বাজারেও একাধিকবার মূল্যবৃদ্ধি হয়। ২৯ জানুয়ারি সকালে এক দফায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস।

সে সময় ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল। একই সঙ্গে একবারে এত বড় অঙ্কের বৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি।

যদিও পরবর্তীতে কিছুটা সমন্বয়ের মাধ্যমে দাম কমানো হয়েছিল, তবে বাজার এখনো অস্থির রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বা অর্থনৈতিক চাপের সময় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেন। এতে চাহিদা বাড়ে এবং মূল্যও বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক দর ও ডলারের বিনিময় হার বড় প্রভাব ফেলে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে ভোক্তা পর্যায়ে।

নতুন দামের ঘোষণায় স্বর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, বিয়ের মৌসুম ও উৎসব সামনে রেখে স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠল।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ না করলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই বাজুসের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক দর ও মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে বাজুস ভবিষ্যতে আবারও মূল্য সমন্বয় করতে পারে।

এদিকে ক্রেতাদের অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন, দাম কিছুটা কমলে কিনবেন এমন প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধির মাধ্যমে আবারও চড়েছে দেশের স্বর্ণের বাজার। ২২ ক্যারেট সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং তেজাবি সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি।

বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে আপাতত ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এটাই বাস্তবতা।

এএন

Link copied!