দেশে প্রতিনিয়ত আবাদি জমির পরিমাণ কমছে, যার দৈনিক পরিমাণ প্রায় ৩০৭ একর। এই পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক চাষাবাদের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএইর পরিকল্পনা শাখার পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার ও হর্টিকালচার শাখার পরিচালক মো. হযরত আলী। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ রাশেদ ইফতেখার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সেলিম খান বলেন, জলবায়ুর বৈরী প্রভাব থেকে কৃষিকে মুক্ত রাখতে হবে। প্রতিদিন ৩০৭ একর করে আবাদি জমি কমে যাওয়ার এই বাস্তবতায় খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের গবেষণা, প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের কাজে, মেধা ও মননে স্মার্ট হতে হবে। তিনি এই প্রকল্পে আরও আধুনিক কাজ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি অর্জিত সাফল্যগুলো ধরে রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহিম বলেন, কৃষককে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই স্মার্ট হতে হবে। আমাদের সব কাজ ও চিন্তাধারায় দেশের কল্যাণ, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে হবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সনাতন আমলের খোরপোশের কৃষি থেকে বেরিয়ে এখন দেশের রপ্তানিমুখী কৃষিতে দৃষ্টি ফেরানো হচ্ছে। এ জন্য কৃষককেও আবাদ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে স্মার্ট হতে হবে।
উল্লেখ্য, পানি, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলার ২৭টি উপজেলায় এই প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন