খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ০৩:১৭ পিএম
খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

খাল-রাস্তা এবং জলাশয় রক্ষায় সরকারি কঠোর নির্দেশনা থাকলেও সেটির তোয়াক্কা না করে ময়মনসিংহের নান্দাইলে অবৈধভাবে সরকারি খাল ভরাট করে স্থায়ীভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বার্থনেষী ব্যক্তিরা। 

উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের সুরাশ্রম মৌজাস্থ বেলতলী বাজার নামক স্থানে পানি নিষ্কাসনের সরকারি খালে মাটি ভরাট করে দোকান ঘর নির্মাণ করছে স্থানীয় নজরুল ইসলাম ভূইয়া ও ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমান সবেমাত্র খালের জায়গায় মাটি ভরাট করেছেন। তবে নজরুল ইসলাম সরকারি জায়গা দখল করে সেখানে পাকা দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দোকান ঘরের তিনি তিন ফুট ওয়াল তৈরি করেছেন।

স্থানীয়ভাবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

সরজমিন দেখা যায়, সুরাশ্রম মৌজাস্থ জেএলনং ১৩০ ,বিআরএস খতিয়ান নং ১/১, সাবেক দাগ ১৩৩৬ ও হালদাগ ১৮৯০ সরকারি জায়গায় ইচ্ছে মতো দখল করে দোকান নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এতে করে উক্ত এলাকায় বসবাসরত প্রায় ২ হাজার ৫শ’ বাসিন্দার পানি নিষ্কাশনসহ রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

এছাড়া পানি নিষ্কাসনের অভাবে ফসলিজমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শতভাগ শঙ্কা রয়েছে। 

ইতোমধ্যে বর্ষাকালে ২ থেকে ৩টি বাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অবৈধভাবে সরকারি খাল বন্ধ করে দোকান ঘর নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী জানায়, সরকারি খাল ভরাট করাকে কেন্দ্র করে যেকোন সময় এলাকাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে মাটি ভরাটসহ দোকান নির্মাণের কথা স্বীকার করে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি প্রশাসনের কাউকে অবহিত করেনি। আর আমার বাড়ির সামনে আমি ঘর করেছি, এতে দোষের কি ? সরকার চাইলে দিয়া দিবো।’ তবে খাল ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একসময় খাল ছিলো.. এখন নেই।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘সবাই বলতেছে জায়গাটি খালি না রেখে, সেখানে মাটি ভরাট করে দোকান ঘর তুলে দেন। তাই মাটি ভরাট করেছি।’ 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমার জানামতে এটা সরকারি জায়গা।’

গাংগাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তুষার কান্তি মজুমদার বলেন, ‘আমাদের স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে, স্যার বললেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’ 
এআরএস