একটানা সপ্তাহব্যাপী ভারী বর্ষণে বরগুনার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা।
জেলার নিম্নাঞ্চলে পানিবদ্ধতার কারণে বহু স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন কৃষি কাজে জড়িত মানুষরা।
টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। শহরের দোকানপাটও তুলনামূলকভাবে কম খোলা দেখা গেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে উপকূলীয় এলাকায় পায়রা নদী বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে তীরে অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বরগুনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান বৃষ্টিপাতে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় পচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অপরদিকে, নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী উপজেলার কিছু স্থানে মাছের ঘেরও পানিতে তলিয়ে গেছে। এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য আবহাওয়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “ভারী বর্ষণের প্রভাবে বরগুনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের আমন ফসলের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই আগাম আমন ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই কম।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন