হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন আনন্দ সাহা

বি.এম খোরশেদ, মানিকগঞ্জ প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫, ০৩:৩৮ পিএম
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন আনন্দ সাহা

মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আনন্দ সাহা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকলেও তার প্রেমিকা অমরিতা সরকারের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

দুর্ঘটনায় তার দুটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেলেও আজীবনের অঙ্গীকার থেমে থাকেনি।

বৃহস্পতিবার ছিল আনন্দ সাহার পূর্ব নির্ধারিত বিয়ের দিন।

দুর্ঘটনার কারণে মূল আয়োজন স্থগিত হলেও দুই পরিবারের সম্মতিতে বেসরকারি হাসপাতালে কেবিনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। 

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আনন্দ সাহা কনের মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দেন। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক আগে মানিকগঞ্জ শহরের বাসিন্দা আনন্দ সাহার সঙ্গে ঘিওর উপজেলার অমরিতা সরকারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেম গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে মানিকগঞ্জে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় আনন্দ সাহা গুরুতর আহত হন।

হাসপাতালের ফেসবুক পেজে বিয়ের অনুষ্ঠান লাইভ করা হয় এবং তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, শয্যাসায়ী অবস্থায় দুই হাত ব্যান্ডেজবাঁধা আনন্দ সাহা কনের মাথায় সিঁদুর পরাচ্ছেন। শয্যাস্যায় স্বামী ও কনের পরিবারের উপস্থিতি ছিল।

আনন্দ সাহা মানিকগঞ্জ শহরের চান মিয়া লেনের বাসিন্দা অরবিন্দ সাহার ছেলে। অমরিতা সরকার ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের সুবোধ সাহার মেয়ে। অমরিতা স্থানীয় খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

আনন্দের চাচাতো ভাই অমি সাহা বলেন, “দুই পরিবারের সম্মতিতে হাসপাতালের ভেতরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ইচ্ছে ছিল বড় আয়োজন করার, কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান হয়েছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”

বরের বাবা অরবিন্দ সাহা জানান, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে মন খারাপ থাকলেও অনুষ্ঠানে আনন্দ ছিল। নববধু অমরিতা সরকার বলেন, “মানুষের জীবনে ভাল-মন্দ সবই সৃষ্টিকর্তার দিক থেকে আসে। আমরা সেটি মেনে নিয়েছি। সবাই আমাদের নতুন সংসার ও স্বামীর সুস্থতার জন্য আশির্বাদ করবেন।”

মানিকগঞ্জ আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম জানান, “রোগীর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বেডের পাশে বিয়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন অনুষ্ঠানের স্বাক্ষী হতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আনন্দিত।”

 

ইএইচ