জব্দকৃত দামি ফোনের বদলে কম দামের ফোন: তদন্তে পিবিআই

আলী হাসান, জয়পুরহাট প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম
জব্দকৃত দামি ফোনের বদলে কম দামের ফোন: তদন্তে পিবিআই

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে জব্দকৃত আইফোনসহ চারটি দামি মুঠোফোনের মধ্যে দুটি সরিয়ে কম দামের ফোন বসানোর অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সোহেল রানা গত ৪ অক্টোবর এই ঘটনায় পিবিআইসহ সংশ্লিষ্টদের তদন্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি আজ বুধবার নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সাঈদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথ গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা গত ৪ সেপ্টেম্বর ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসেন। ভোর রাতে মুখোশধারী একদল ডাকাত অস্ত্রের মুখে সোহেল রানা ও তার বাবা রুবেল হোসেনকে জিম্মি করে হাত–পা বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরে থাকা ২৯ হাজার টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তে ২ অক্টোবর ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ডাকাত দলের সরদার কামাল গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির মালামালসহ চারটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

তবে আসামি কামাল গাজী আদালতে অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে জব্দ করা আইফোনসহ দুটি দামি মুঠোফোন তালিকা থেকে সরিয়ে কম দামের দুটি ফোন বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে জব্দ তালিকায় থাকা মোট চারটি ফোনের মধ্যে প্রকৃত দামি ফোন দুটি আর নেই।

জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম। 

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারা অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত সকল আলামত সঠিকভাবে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, “আসামির কাছ থেকে পাওয়া চারটি ফোনই যথাযথভাবে জব্দ করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”

তিনি আরও জানান, আসামি কামাল গাজীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৪টি মামলা রয়েছে।

তবে আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পিবিআই বগুড়া। সংস্থাটির পুলিশ সুপার এ কে এম মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগে আক্কেলপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার হন এবং পরে ডিবিতে বদলি করা হয়।

ইএইচ