ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সাতজন প্রবাসী প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দেশটির স্থানীয় সময় বিকেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরার কাজ শেষে ১১ জন বাংলাদেশি একটি পিকআপ ভ্যানে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। প্রতিটি বাড়িতে চলছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
সারিকাইত ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত রকির বাড়িতে দেখা যায়, তার বাবা ইব্রাহিম কোলে শিশুকে নিয়ে নিথর হয়ে বসে আছেন। চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, “ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাইছিলাম, এখন লাশ আনতে হবে।”
সারিকাইত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত আরজুর বাড়িতেও চলছে আহাজারি। তার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, স্ত্রীর অবস্থাও একই। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনার চেষ্টা করলেও পরিবারে ফিরছে না স্বস্তি।
মাইটভাঙ্গা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত আমিন সওদাগরের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। জানুয়ারিতে মেয়ের বিয়ের তারিখও ঠিক হয়েছিল। সেইসব স্বপ্ন এখন কেবল স্মৃতি। স্ত্রী ও মেয়ে সুমাইয়া প্রিয়জনের মরদেহের ফেরার অপেক্ষায় আছেন।
পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত রনির পরিবারও বাকরুদ্ধ। পরিবার-পরিজনের একটাই আকুতি—“প্রিয়জনের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফেরানো হয়।”
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা নিহতদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “পরিবারগুলোর পাশে আমরা আছি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীও নিহতদের পরিবারে গিয়ে সমবেদনা জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, “স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”
নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির নেতারা পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং শোক প্রকাশ করেন।
নিহতদের স্বজনরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। অন্তত মরদেহগুলো যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।” তারা সরকারিভাবে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন