টিকটকার মেয়েকে বাঁচাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মায়ের, আহত দুই নারী

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৫, ০৭:৪১ পিএম
টিকটকার মেয়েকে বাঁচাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মায়ের, আহত দুই নারী

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিদ্যুতস্পৃষ্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিজেই প্রাণ হারিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ছোট বিনাইরচর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের মেয়ে ও শ্বাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত মায়ের নাম রোজিনা আক্তার (৩৫)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার কামারপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে আড়াইহাজারে একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন রোজিনা। এ কারণে পরিবারটি ছোট বিনাইরচর এলাকায় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে সোহেল মিয়া তার পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কারণে বাড়িটির দোতলার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের কভারবিহীন তার গিয়েছিল। বাড়ির মালিক বারবার স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে কভার তার বা বিকল্প সংযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রোজিনার মেয়ে সুরভী আক্তার (১৪) মোবাইলে টিকটক ভিডিও ধারণ করতে দোতলায় ওঠে। অসাবধানতাবশত তার কপাল ওই খোলা বিদ্যুতের তারে স্পর্শ করলে সে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মা রোজিনা ও দাদি মাসুদা বেগম (৬০) ছুটে যান। এতে তিনজনই বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুরভীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমকে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে এক নারী মারা গেছেন এবং দুই নারী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আড়াইহাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার টি. এম. মেসবাহ উদ্দীন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিস থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “যখন ওই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন ভবনটি ছিল একতলা। পরবর্তীতে ভবন সম্প্রসারণের ফলে তারের দূরত্ব কমে গেছে। ওই এলাকায় বড় খুঁটি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবেশিদের আপত্তির কারণে এক পাশে খুঁটি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে নতুন খুঁটি বসানো হবে।”

ইএইচ