প্রেমে বাধা, বিয়ে নয় তবু হাল ছাড়েননি চীনা যুবক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম
প্রেমে বাধা, বিয়ে নয় তবু হাল ছাড়েননি চীনা যুবক

প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়েও প্রিয়াকে বিয়ে করা হলো না চীনা যুবক ওয়াং তাওজেনের। আইনি জটিলতা ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ত্যাগ করেন। সেখান থেকে রাতেই বিমানে চড়ে ফিরে গেছেন চীনে। তবে যাওয়ার আগে তিনি জানিয়েছেন চীন থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলেই আবার ফিরব, সুরমাকে বিয়ে করতেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা গ্রামের কোনাপাড়ার তরুণী সুরমা আক্তারের সঙ্গে দেড় মাস আগে ওয়াল টক অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হয় ওয়াং তাওজেনের। ধীরে ধীরে প্রেম গাঢ় হয়, দুই পরিবারের সম্মতিতেও এগিয়ে আসে বিয়ের প্রস্তুতি। 

গত ৩১ অক্টোবর প্রেমিকার দেখা পেতে তিনি বাংলাদেশে আসেন।

কিন্তু আসার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয় কানাঘুষা ও কৌতূহল। কেউ বলছেন, ‘সুরমা কোটি টাকায় চীনা যুবকের সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছেন’, আবার কেউ বলছেন, ‘ওই যুবক নাকি মেয়েটিকে বিদেশে বিক্রি করে দেবে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে নানান গুজব ও কটূ মন্তব্য।

নির্ধারিত ছিল ২ নভেম্বর বিয়ের তারিখ। কিন্তু স্থানীয়ভাবে ও আদালতের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে গিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেও চীনা নাগরিক হিসেবে তাওজেনের বিয়ে সম্পন্নের আগে দূতাবাসের অনুমতি প্রয়োজন হয়। বিষয়টি স্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য চীনা দূতাবাস থেকে পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকেও মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।

সুরমার মাতা নুরেনা বেগম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ওদের বিয়ে হোক। কিন্তু এত মানুষ এসে নানা কথা বলায় আর দূতাবাসের বিধিনিষেধে সব আটকে গেল।

চাচা বাহার আলী জানান, চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, বিদেশি নারীকে বিয়েতে তাদের সরকারের অনুমতি নিতে হয়। তাই আমরা তাওজেনকে বলেছি দেশে ফিরে অনুমতি নিয়ে আসতে।

চীনা দূতাবাস সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে জানায়, বিদেশে বিয়ে করতে হলে দেশের আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা অবৈধ ‘ম্যাচমেকিং এজেন্ট’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারা আরও জানিয়েছে, বিয়ের আগে ভালোভাবে চিন্তা–ভাবনা করুন, ‘বিদেশি স্ত্রী কেনা’ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

ঢাকায় যাওয়ার আগে সুরমাকে উদ্দেশ্য করে তাওজেন বলেন, আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি না, শুধু অপেক্ষা করছি আইনের অনুমতির জন্য। আবার ফিরে আসব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে নারী–পুরুষ অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা বাড়ায় অনেক পুরুষ অন্য দেশে বিয়ে করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এ সুযোগে কিছু অসাধু এজেন্সি টাকার বিনিময়ে ‘বিয়ে বা প্রেমের’ আড়ালে মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

ভালোবাসা কখনো সীমান্ত মানে না, তবে আইন ও সমাজের বাস্তবতা অনেক সময় তা মেনে নিতে চায় না। তাওজেন ফিরছেন আজ, কিন্তু তার প্রতিশ্রুতি রয়ে গেছে—সব ঠিক হলে আবার ফিরবেন সুরমার হাত ধরতে।

ইএইচ