মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড যশোরে, জনজীবন বিপর্যস্ত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০১:২৪ পিএম
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড যশোরে, জনজীবন বিপর্যস্ত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। যশোর জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ভোরে এ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় বলে জানিয়েছে যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান বাহিনী ঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তর।

এর আগে শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরো জেলা। সূর্যের দেখা মিললেও কনকনে ঠান্ডা সারাদিন ধরে অনুভূত হচ্ছে।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। অনেক এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরোনো কাপড় জ্বালিয়ে মানুষ শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

এদিকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বজলুর রশিদ টুলু জানান, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি শিশু ভর্তি রয়েছে। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন শত শত মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসকরা শিশু ও বৃদ্ধদের উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি গরম খাবার ও পর্যাপ্ত তরল পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। অপ্রয়োজনে ভোর ও গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরের হিমেল বাতাস ও কুয়াশার এই ধারা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শীত মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জেএইচআর