১৯৪০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়টি আজ চরম অবহেলার শিকার। দীর্ঘকাল সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বিদ্যালয়টির মূল অবকাঠামো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
জরাজীর্ণ ভবন আর শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টির প্রায় ২৬ বিঘা জমি থাকলেও বর্তমানে কর্তৃপক্ষের দখলে রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বিঘা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সিংহভাগ সম্পত্তি বিভিন্ন মহলের দখলে চলে গেছে। বর্তমানে ১ একর ৫৫ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানের সামনে বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও মূল ভবনের বেহাল দশা নিরসনে দৃশ্যত কারও নজর নেই।
বিদ্যালয়টিতে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি একতলা ভবনে ১২টি শ্রেণিকক্ষ ছিল, যার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ২০১০ সালে ছোট আকারের আরও তিনটি ভবন নির্মাণ করা হলেও শিক্ষক মিলনায়তন ও কম্পিউটার কক্ষের বাইরে মাত্র দুটি ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো ভবনগুলোর ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে এবং জানালা-দরজা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কেউ আর এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের খোঁজ নেন না। প্রায় দুই যুগ ধরে অন্তত পাঁচটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। অথচ স্বাধীনতার ৫ দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডল জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছর আগেই মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি মনে করেন, একটি নতুন ভবন নির্মিত হলে পাঠদান সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন