ভোলার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল রক্ত প্রয়োগের কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই ক্লিনিকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকার বন্ধন হেলথ কেয়ার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহত প্রসূতির নাম লামিয়া আক্তার (২২)। তিনি ভোলা শহরের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার বাসিন্দা শরিফের স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার লামিয়াকে সিজারিয়ানের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর রক্তের গ্রুপ যাচাই না করেই 'ও পজিটিভ' রক্তের পরিবর্তে ভুল করে 'বি পজিটিভ' রক্ত দেওয়া হয়। এতে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল রেফার করা হয়।
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার সন্ধ্যায় লামিয়ার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের মৃত্যু সনদে ভুল রক্ত প্রয়োগের কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান ফেলে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ভোলা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবার নামে এসব ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর তদারকি নেই।
ভোলা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশ বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন