নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনার জেরে উত্তেজিত সমর্থকদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাবিহা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমার পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল করিম ওই এলাকার ছাবেদ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে রেজাউল করিম ডায়াবেটিস রোগী হওয়ায় প্রতিদিনের মতো রাতে খাবার শেষে বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তাঁকে কুপিয়ে জখম করার পর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
অগ্নিসংযোগ ও বৃদ্ধার মৃত্যু রেজাউল করিমের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা প্রতিবেশী ওহাব আলীর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঘরের ভেতরে থাকা ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগম আগুনে পুড়ে মারা যান।
পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই রাতে দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে।
পুলিশের বক্তব্য নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংস। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন