অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এসিল্যান্ড রোহানের

মোহাম্মদ আলী, বগুড়া প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এসিল্যান্ড রোহানের

মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনস্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার এসিল্যান্ড রোহান সরকার।

গত ২৪ নভেম্বর তাকে এ পদকে ভূষিত করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২০ মাসে প্রশাসনিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসিল্যান্ড রোহান সরকারের নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনে প্রায় শতাধিক অভিযান ও মামলা করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ২টি নিয়মিত মামলা এবং ১২টি সফল জব্দ অভিযান পরিচালিত হয়েছে যা চলতি বছরেও পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং ৪টি এক্সক্যাভেটর ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। একই আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আবাদি জমি সুরক্ষায় এসিল্যান্ড রোহানের পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অবৈধভাবে ফসলি জমি খনন রোধে একাধিক পৃথক অভিযানে জরিমানা আরোপ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনায় বড় সাফল্য হিসেবে বিজরুল মৌজায় দীর্ঘদিন দখলে থাকা দুটি খাস পুকুর উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন তিনি। তাঁর এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে।

এসিল্যান্ড রোহান সরকার ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে একাধিক অভিযান চালিয়েছেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে অবৈধ ক্লিনিক ও নামী-দামী রেস্টুরেন্টে, বিএসটিআই অনুমোদন না থাকা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কোথাও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং কোথাও ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার ২১ জানুয়ারি কুন্দারহাট বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রি করার অপরাধে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী এক মাছ বিক্রেতাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা প্রায় ২০ কেজি আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ করেন। 

মঙ্গলবার বিকেলে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিশা বেকারিতে অভিযান চালিয়ে বিএসটিআই অনুমোদন না থাকা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সার ও কীটনাশক মজুদ আইন, মৎস্য রক্ষা আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদানের মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখেছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের কারণে এসিল্যান্ড রোহান স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এ কর্মতৎপরতা বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা রোহান সরকার বলেন, রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড হিসেবে এ স্বীকৃতি আমার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড় দায়িত্ব। গত ২০ মাসে চেষ্টা করেছি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে। বিশেষ করে আবাদি জমি রক্ষা, খাস সম্পত্তি উদ্ধার এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অভিযানগুলো ছিল জনস্বার্থেই। 

তিনি আরও বলেন, এ সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবা করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে এ তৎপরতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

ইএইচ