নোয়াখালীতে স্কুলফেরত শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: বখাটে সুজন আটক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

নোয়াখালী প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
নোয়াখালীতে স্কুলফেরত শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: বখাটে সুজন আটক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

শিক্ষা নিয়ে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল তৃতীয় শ্রেণির শিশুটি। কিন্তু কে জানত, ফেরার পথে ওত পেতে থাকা এক পিশাচ তার শৈশবকে তছনছ করে দেবে? নোয়াখালী সদর উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত যুবক মো. সুজনকে (২৭) ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে। স্কুল ছুটি হওয়ার পর সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। কিন্তু পথের এক নির্জন স্থানে একা পেয়ে সুযোগ সদ্ব্যবহার করে অভিযুক্ত সুজন। সুজন স্থানীয় এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার বয়ানে উঠে এসেছে সেই বিভীষিকাময় সময়ের কথা। তিনি বলেন, "বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় আমি উদ্বিগ্ন হয়ে স্কুলের দিকে রওনা হই। পথে একটি বাড়ির সামনে মানুষের জটলা দেখে এগিয়ে যাই এবং আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই পাশবিকতার কথা জানতে পারি।

আটক মো. সুজন বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আজ সকালে ছাত্রীর অভিভাবক আমাকে ফোন করে বিস্তারিত জানান। আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। এই সুজন এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে নানাভাবে হয়রানি করেছে। কিন্তু এবার সে যে চরম অপরাধ করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

সোমবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা সুজনকে খুঁজে বের করে স্কুলের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নোয়াখালী সদর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুটি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। তার প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত সুজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিক্যাল টেস্ট) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

নোয়াখালীর এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের পথে যে ধরণের বখাটেপনা বা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়, তার চূড়ান্ত রূপই হলো এই ধর্ষণ। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল পুলিশি ব্যবস্থা নয়, বরং এলাকায় বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি।

স্কুলটির অন্য ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের দাবি, স্কুলের আশেপাশে বখাটেদের আড্ডা বন্ধে যেন স্থায়ী পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়।

শৈশবের সারল্যকে যারা এভাবে পদদলিত করে, সমাজ ও আইনের দৃষ্টিতে তারা ক্ষমার অযোগ্য। নোয়াখালীর এই শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে যে ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার বিচার কি কেবল সুজনের জেলেই শেষ হবে? নাকি এমন বিচার নিশ্চিত হবে যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো পাষণ্ডকে এমন অপরাধ করতে দশবার ভাবতে বাধ্য করবে? পুরো নোয়াখালী এখন সেই ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।

এএন