রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে সাংবাদিকরা প্রকাশ্যে হুমকির শিকার হয়েছেন। অভিযানের সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ফুটেজ ধারণ করছিলেন। ঠিক সেই সময় মেসার্স মৃধা স্টোরের স্বত্বাধিকারী শাজাহান মৃধা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় একের পর এক হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হুমকিদাতা ব্যক্তি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “তারা চাঁদাবাজি করছেন” এবং “চাঁদাবাজির মামলা হবে।” এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেন, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সামনেই এ ধরনের হুমকি কতটা আইনসম্মত এবং এটি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে কি না।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন, যার ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেসার্স মৃধা স্টোর সরকারি কীটনাশক ও সার সরবরাহকারী, যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি ইউনিটে চার থেকে পাঁচশ টাকা বেশি বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ সার গুদামে মজুদ রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্তের পরিচয় দেওয়া হয়েছে—শাজাহান মৃধা, পিতা: পাচু মৃধা, বাড়ি: চড়ারকান্দি গ্রামে, বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী।
অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিকের চারজন প্রতিনিধি মো. রুবেল হোসেন মিয়া, মো. রিয়াদ হোসেন রুবেল, তনু শিকদার সবুজ এবং জয়নাল আবেদীন। ঘটনার পর সাংবাদিকরা থানা ও সেনাবাহিনী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সচেতন মহলের মতে, একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর উপস্থিতিতেও সাংবাদিকরা প্রকাশ্যে হুমকির শিকার হলে, মাঠপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ প্রশ্ন এখন তীব্র। তারা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন