নির্বাচনের প্রাক্কালে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’। সংগঠনটির নেতারা বলেন, তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশি–বিদেশি একটি সিন্ডিকেটের স্বার্থ কাজ করছে।
রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমন করতে প্রশাসনিক চাপ, শ্রমিক নেতাদের বদলি ও নানা ধরনের হয়রানির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল ‘নিউমুরিং টার্মিনাল’ আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেতাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার চেষ্টা চলছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল অপারেটর হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। এতে ৩০ থেকে ৪০ বছরের জন্য দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত বিদেশি নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তাদের দাবি, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় যেখানে প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড়ে ১৬১–১৬৭ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাওয়া যায়, সেখানে প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তিতে তা নেমে আসতে পারে মাত্র ২০–৩০ ডলারে। এতে বছরে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বিডে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার পরিপন্থি। নেতারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের মতো একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিদেশি বড় অপারেটররা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে দিতে চায় না।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং টার্মিনাল লিজ দেওয়ার উদ্যোগকে আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখছে সংগঠনটি। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে পরোক্ষভাবে বিদেশি শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের বন্দর বিদেশিরা পরিচালনা করে’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে সিঙ্গাপুরের কোনো কনটেইনার টার্মিনালই সম্পূর্ণভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নেই।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি অবিলম্বে নিউমুরিং টার্মিনালকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। দাবি মানা না হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও দেন সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন