ফেনীর সাবেক তিন এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফেনী প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ফেনীর সাবেক তিন এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফেনীর মহিপালে ২৪ এর অভ্যুত্থানে কলেজছাত্র ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। 

এতে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ পলাতক ১৫৭ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এ আদেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ হারান ওয়াকিল আহমেদ শিহাব। 

এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ আগস্ট নিহত ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকার ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য  লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৫১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। 

এছাড়া আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন বলেন, এ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪৮ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ৭১ জনসহ মোট ২১৯ জনের নামউল্লেখ করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

মামলায় এজাহারভুক্ত ১৩ জন ও সন্দেহভাজন ৪৯ জনসহ মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন মেজু, এনামুল হক এনামসহ ছয়জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবী মেম্বার ও ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। 

তারা দুজনেই সেদিন অস্ত্রধারী ছিল। এছাড়া এক আসামির নাম-ঠিকানা মিল না পাওয়ায় ও দুইজনের ঘটনা সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় মোট তিনজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, চলতি বছরের ১৮ ও ২৫ জানুয়ারি দুই দফা পর্যালোচনা শেষে রোববার আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেছে। এ মামলায় ২১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আসামিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

ইএইচ