দিনাজপুরে তুলার বাম্পার ফলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
দিনাজপুরে তুলার বাম্পার ফলন

মাঠে মাঠে এখন ধবধবে সাদা তুলা। সবুজ পাতার বুকে তুষারশুভ্র এ ফসলের হাসিতে দিনাজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ। 

অন্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ক্ষতির ঝুঁকি না থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ ‘সাদা সোনা’ আবাদে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তবে চাষিদের মুখে লাভের হাসি থাকলেও তুলা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

দিনাজপুর আঞ্চলিক তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন কেন্দ্রের তথ্যমতে, সদর উপজেলাসহ জেলার সাতটি উপজেলায় এবার তুলার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা জানান, এক একর জমিতে তুলা চাষে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। 

প্রতি হেক্টরে উৎপাদন মিলছে প্রায় ১.৬ টন। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় তুলা বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় অনেক চাষি এখন অন্য ফসল ছেড়ে তুলার দিকে ঝুঁকছেন।

তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। মাঠ থেকে ঘরে তুলতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। এ কারণে অনেক কৃষক শুরুতে আগ্রহী হতে চান না। 

দিনাজপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানা ইয়াসমিন জানান, তুলার জীবনকাল কমিয়ে আনার বিষয়ে নিবিড় গবেষণা চলছে। সময় কমলে কৃষকেরা একই জমিতে আরও বেশি ফসল ফলাতে পারবেন।

এদিকে তুলা তোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, প্রতি কেজি তুলা তুললে তারা মজুরি পান মাত্র ১৬ টাকা। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ৩০ কেজি তুলা তুলতে পারলেও মজুরি জোটে মাত্র ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। বর্তমান বাজারদরে এ সামান্য আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বাড়ানো না হলে আগামীতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে দেশে তুলার মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ মেটানো হয় দেশি উৎপাদন থেকে। দিনাজপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক জাফর আলী বলেন, সারা দেশে ২১ হাজার চাষিকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। 

চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ, উন্নত বীজ ও সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে তুলা চাষে দেশ একসময় স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

দিনাজপুরের কৃষকেরা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ তুলাই হতে পারে দেশের পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানির বিকল্প এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ইএইচ