আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনীতির ময়দানে নতুন সমীকরণের ডাক দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার সকালে ঢাকার সাভারের শাহীবাগ এলাকায় এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও আমূল পরিবর্তনের। আর এ পরিবর্তনের মূর্ত প্রতীক হলো ১১ দলীয় ঐক্যের দুই প্রধান প্রতীক, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি।
শাহীবাগের মাতৃবাগান জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের এক হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ এ নির্বাচনের দুয়ারে দাঁড়িয়েছি। কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটকে সরকারে বসানো এখন সময়ের দাবি।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে সরাসরি আধিপত্যবাদী রাজনীতির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি যে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের জন্য শাহাদাত বরণ করেছেন, সেই বাংলাদেশ গড়তেই আমরা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছি। দিল্লির যারা তাঁবেদারি করে এসেছে কিংবা যারা নতুন করে দিল্লির দাসত্ব করতে চায়, তাদের রাজনীতি এদেশের মাটিতে আর কখনোই ঠাঁই পাবে না। আজাদি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দুও আপস করব না।
তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রয়োজনে ছাত্র জনতা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু বাংলাদেশের ওপর কোনো বিদেশি প্রভুর খবরদারি সহ্য করা হবে না।
নাম উল্লেখ না করলেও বড় একটি রাজনৈতিক জোটের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি একটি দল অনেকগুলো ছোট দলকে নিজের পেটে ঢুকিয়ে নিয়েছে। এটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। সেই দলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের ওপর হামলা করছে, হুমকি দিচ্ছে।
আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, যাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটেছিল, তাদের কোনো হুমকিকেই আমরা ভয় পাই না। শেরপুরে ১১ দলীয় জোটের এক কর্মীকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের ফ্যাসিবাদী কায়দা এদেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি রুখে দেবে।
ঢাকা-১৯ বা সাভার আসনে এনসিপি মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দিলশানা পারুল কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ইনসাফের প্রতিনিধি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়ী করার মানে হলো ইনসাফ কায়েমের লড়াইকে জয়ী করা।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি একে অপরের পরিপূরক। এ জোটই পারবে একটি বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিতে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল বক্তব্য রাখেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা জেলা সেক্রেটারি আফজাল হোসাইনসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাভারের শাহীবাগ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
সাভারের এ সমাবেশ থেকে নাহিদ ইসলাম যে বার্তা দিলেন, তা স্পষ্টত দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক মেরুকরণেরই বহিঃপ্রকাশ। বড় দলগুলোর প্রভাব বলয় ভেঙে ১১ দলীয় এ ঐক্য কতটা সফল হয়, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির।
ইইএচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন