ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর অভিযোগ এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঞার অনশনের মুখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোমেন শর্মা।
তিনি জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জসিম উদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটকে অনশনে বসেন তারিকুল ইসলাম ভূঞা। অনশন চলাকালে জেলা প্রশাসক মনিরা হক তার সাথে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ বিবেচনার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী একরামুল হক তাকে সংহতি জানান।
তারিকুল ইসলাম ভূঞা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে ট্রাংক রোডের সেন্ট্রাল হাই স্কুলের সামনে লাগানো সাদা-কালো বিলবোর্ড খুলে নিতে বলেন এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন। এজন্য সময় চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ এমনকি জেলে পাঠানোর হুমকি দেন।
তিনি আরও জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিলবোর্ড নামিয়ে ফেললেও শহরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচুর রঙিন বিলবোর্ড লাগানো রয়েছে। বৈষম্যমূলক আচরণ করায় সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অপসারণ না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া বড় প্রার্থীর লোকজন তাকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও তারিকুলের দাবি।
এদিকে এসিল্যান্ডের প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে আলাদা অভিযোগ করেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। শুক্রবার সকালে ওই অভিযোগের শুনানি করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ। শুনানিতে জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন এবং ঈগলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ ন ম আবদুর রহীম অংশ নেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন