ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রশাসনকে আজ রাত ৮টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। গত বুধবার বিকাল থেকে নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শাওনের মরদেহ ভেসে ওঠে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদের ওপারে ঘুরতে গিয়ে কিশোর গ্যাং বা ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েছিলেন শাওন ও তাঁর এক বন্ধু। শাওনের বন্ধু পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও শাওন নিখোঁজ হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
শনিবার দুপুর ২টায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে শাওনের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শাওন হত্যার বিচার এবং কিশোর গ্যাং মুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব বেড়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিক্ষোভের মুখে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের ধরতে পুলিশের ১০টি টিম কাজ করছে।
নিহত নুরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের সন্তান। মেধাবী এই ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন