পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এক বিএনপি নেতা ও তাঁর বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। চাঁদাবাজি, অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে আজ মঙ্গলবার চন্দ্রদ্বীপ খেয়াঘাট এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষেরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক যুবদল সভাপতি রুহুল রাঢ়ীর নেতৃত্বে একটি বাহিনী পুরো ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কৃষকরা জানান, নিজের জমিতে চাষাবাদ করতে গেলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং জোরপূর্বক জমি অন্যের কাছে ইজারা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই বাহিনী।
ভুক্তভোগী এক কৃষক অভিযোগ করেন, তরমুজ খেতে প্রতি তাওয়া (বীজ রোপণের গর্ত) তৈরির জন্য মজুরি বাবদ তিন টাকা পেলে সেখান থেকে এক টাকা রুহুল বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে মারধর ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পুরো ইউনিয়নটি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়।
চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব বলেন, চন্দ্রদ্বীপের মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র। কৃষি ও মাছ ধরাই তাঁদের আয়ের একমাত্র পথ। কিন্তু সেখানেও প্রতিনিয়ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বিএনপি নেতা রুহুল রাঢ়ী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যাঁরা বিএনপির ওপর নির্যাতন করেছে, তারাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানববন্ধনকারীদের তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে দাবি করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন