ধর্ষণের পর কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ধর্ষণের পর কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে অপহরণ ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন- আহম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০) ও গাফ্ফার (৩৪)। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আহম্মদ আলী দেওয়ান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিন আগে বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পরিবারটি বিচার চেয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়। সেখানে ধর্ষক পক্ষ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা করলে নিহতের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকেই পরিবারটিকে গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার রাতে বাবা তাঁর মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বখাটে নূরা ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর পুনরায় ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি সরিষা ক্ষেতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলার পর এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীদের জন্য আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

জেএইচআর