সেতু নয় যেন মরণ ফাঁদ, এক যুগেও হয়নি মেরামত 

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
সেতু নয় যেন মরণ ফাঁদ, এক যুগেও হয়নি মেরামত 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রায় এক যুগ ধরে একটি ভাঙাচোরা সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। জরাজীর্ণ এই সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করায় বর্তমানে এটি এলাকাবাসীর কাছে এক ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের নারানদিয়া নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। 

সেতুর একপাশের রেলিং ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে, আর অন্যপাশের রেলিংয়ের অর্ধেক অংশ ঝুলে আছে। পলেস্তারা উঠে গিয়ে বেরিয়ে গেছে ভেতরের মরচে ধরা রড। এমন কঙ্কালসার অবস্থায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির তালুকদার বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে এই নারানদিয়া সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ১২ বছর ধরে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে এই সেতুটি ব্যবহার করছেন। সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

নারানদিয়া গ্রামের এক ভ্যানচালক জানান, এলাকার সবচেয়ে বড় বাজার ময়েনদিয়ায় যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। হাটের দিন কৃষি পণ্য নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করা খুবই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করে গেলেও নতুন সেতু নির্মাণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

মোটরসাইকেল চালক সেলিম ইসলাম বলেন, সেতুটির ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় পুরো ব্রীজ কাঁপতে থাকে। এখানে ইতিমধ্যে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো গাড়ি এখন আর চলাচল করতে পারে না।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, নারানদিয়ার সেতুটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে ওই স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

বিপজ্জনক এই সেতুটি অপসারণ করে দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেএইচআর