খুলনার কয়রা উপজেলায় দুই কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গ্রাজুয়েট স্কুলের পেছনে লোকা গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের বাড়ি থেকে লোকার হামকুরুর মোড় পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এই সড়ক নির্মাণকাজ চলছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের বেডে মানসম্মত পাথরের খোয়া ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
লোকা গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ আলী বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলে অল্পদিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে আমাদের ভোগান্তি বাড়বে।”
আরেক বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই সঠিক মান বজায় রেখে কাজটি করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করলে একটি টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ সম্ভব।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বন্ধ এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে সড়ক নির্মাণকাজের সাথে জড়িত ঠিকাদার আজিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “আমি এখনো কাজের স্থানে যাননি। সম্ভবত ভাটার কারণে কিছু নিম্নমানের ইট সরবরাহ হয়েছে। যদি ইটের খোয়া নিম্নমানের হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে।”
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল ফজল বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে তা পরিবর্তন করতে হবে। নিয়ম না মেনে কাজ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পটি প্যাকেজ আকারে হচ্ছে এবং দুটি সড়কের কাজের মূল্য দুই কোটি ১৭ লক্ষ টাকা।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন