রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দুঃস্থদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রায় এক থেকে দেড় কেজি কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উপকারভোগী।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারান্দায় চাল ঢেলে বালতিতে ভরে উপকারভোগীদের চাউল দেওয়া হচ্ছে। চাল মাপার জন্য কোনও পরিমাপ যন্ত্র নেই। সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর একটি পরিমাপ যন্ত্র এনে বালতি ভরে পরিমাপ করা হলে দেখা যায় ৯ কেজি ২৯৩ গ্রাম চাল। এসময় চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল শরীফকে দেখা যায়নি। তবে পাশেই মাস্ক পরে বসে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে উপজেলা মৎস্য অফিসের হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামানকে।
পৌরসভার সত্যজিৎপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা তাউজেল নামে এক উপকারভোগী বলেন, “চাল নিয়ে মনে হলো ওজনে কম। পরে পৌরসভার সামনে থেকে মাপ দিলে দেখি ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম।”
আয়সা নামের এক উপকারভোগী চাল পেয়ে পৌরসভার সামনের একটি দোকান থেকে মাপ দিলে দেখেন ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম। অপর এক উপকারভোগী চাল মাপলে দেখেন ৮ কেজি ২০০ গ্রাম।
জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি। বরাদ্দকৃত চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার ৩০ কেজি ওজনের ১৫৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গোডাউনে রেখেছি। শনিবার বিতরণ হয়েছে এবং আজও বিতরণ করা হচ্ছে।”
তবে উপকারভোগী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন: জনপ্রতি এক-দেড় কেজি চাল কম দিলে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার কেজি চাল কোথায় গেল? পৌরসভার গোডাউন থেকে কি চাল উধাও হয়ে গেছে, নাকি পৌরসভার সচিব এসব চাল আত্মসাৎ করেছেন?
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিছুর রহমান বলেন, “একটি বস্তার ওজন ৩০০ গ্রাম। বস্তায় চালও কম থাকে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। আমরা সেভাবেই চাল বিতরণ করছি। তাহলে কিভাবে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি করে কার্ড প্রতি চাল দেওয়া হচ্ছে? এমন হওয়ার সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি পৌরসভার বাইরে গিয়ে আবার এসে বলে চাল কম, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাইরে থেকে যদি বলেন টাকা কম, তাহলে কি ব্যাংক দায় নেবে? ঠিক সেইরকম, আমরা চাল কম দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ নই।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন