পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় সরকারের ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে মাগুরা জেলার ২ নং বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদে এই চাল বিতরণে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে প্রত্যেক কার্ডধারীকে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬.৬৮ কেজি করে।
স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ঈদকে সামনে রেখে সরকারের এই সহায়তা পাওয়ার আশায় তারা ইউনিয়ন পরিষদে যান। কিন্তু চাল গ্রহণের সময় তারা দেখেন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম চাল দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ উপকারভোগীর দাবি, প্রত্যেকে ১০ কেজির পরিবর্তে প্রায় ৬.৬৮ কেজি করে চাল পেয়েছেন। এতে করে সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, “সরকার গরীব মানুষের জন্য ১০ কেজি চাল দিয়েছে। কিন্তু আমরা হাতে পেয়েছি অনেক কম। ঈদের আগে এই সামান্য সহায়তাটুকুও যদি পুরোটা না পাই, তাহলে আমাদের জন্য তা খুবই কষ্টের বিষয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ২ নং বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তাদের দাবি, ঈদের আগে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল যেন সঠিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের মতে, সরকারের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচি যাতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি জরুরি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন