পবিত্র ঈদুল ফিতরে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছেন লাখো মানুষ। তবে ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে লঞ্চ ও ফেরি পার হয়ে থেমে থেমে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন।
বুধবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলের সঙ্গে ভেঙে ভেঙে আসা যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে লঞ্চে আসা যাত্রীদের ভিড় মোটামুটি ছিল।
ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে বাস কাউন্টারগুলোতে ভাড়ার চার্ট টানিয়ে রাখা হয়েছে। বাস মালিকরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।
মিরপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সিফাত রহমান বলেন, “ঈদযাত্রায় এবার কোনো ভোগান্তি নেই। ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত ফেরি থাকার কারণে যাত্রীদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। ঈদে চাপ কিছুটা থাকতেই পারে।”
শামিম নামের এক সরকারি চাকুরিজীবী, যিনি পরিবার নিয়ে মেহেরপুরে ঈদ করতে যাচ্ছেন, বলেন, “দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রীদের চাপ এবার খুবই কম। বেশির ভাগ যাত্রী পদ্মা সেতু ব্যবহার করছে। ফলে ভোগান্তি কম এবং পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছাতে পারছি।”
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, “ঈদযাত্রায় পারাপার নির্বিঘ্ন করতে এই নৌরুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। সঠিক সিদ্ধান্ত ও ফেরি সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যাত্রীরা স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। তবে আজ গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় বিকাল থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, “ঘাটের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ নজরদারি করছে। চুরি, ছিনতাই, দালাল ও যানজট কমাতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করে স্বস্তির ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন