মাগুরা জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দি অবস্থান করায় আবাসন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ১৭২ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে ২২৬ জন বন্দি রয়েছেন। এর পাশাপাশি খাবার, চিকিৎসা এবং সাক্ষাৎ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রমরমা ‘পিসি বাণিজ্যের’ অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাবেক বন্দি ও তাঁদের পরিবারের দাবি, ক্যানটিনে তেল-মসলাহীন নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়, যা বাধ্য হয়ে বন্দিদের চড়া মূল্যে কিনতে হয়। এছাড়া অসুস্থ বন্দিরা সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেও নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খাদ্য ও ওষুধ বরাদ্দের তথ্য জানতে চাইলে কারা কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে, যা স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. ইব্রাহিম ও জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার অনিয়মের কথা অস্বীকার করলেও নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য দিতে রাজি হননি।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাশ্বতী শীল জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে এবং ঈদের ছুটির পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের মতে, কারাগারের ভেতরের এই ব্যবস্থাগত সংকট দূর করতে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন