মাগুরা জেলা কারাগারে সাম্প্রতিক সময়ে বন্দিদের কল্যাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কারা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্দি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দারের নেতৃত্বে বন্দিদের জন্য মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, বন্দিদের সঙ্গে ইফতার আয়োজন, এতিমদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং দর্শনার্থীদের যেকোনো অভিযোগ শোনার জন্য গণশুনানির মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া জাতীয় দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে। ২৬ মার্চ উপলক্ষে কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
খাবারের তালিকায় ছিল পোলাও ভাত, প্রতি বন্দির জন্য ২০০ গ্রাম গরুর মাংস, একটি করে মুরগির রোস্ট, ডিম, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি ও ফল। বন্দিরা এই আয়োজনকে সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন।
কারাগারের পরিবেশ উন্নয়নে অবকাঠামোগত সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্দিদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের ভেতরে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তারা বলেন, “আগের তুলনায় এখন পরিবেশ অনেক ভালো। খাবার ও চিকিৎসাসেবায়ও উন্নতি হয়েছে।”
সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করছে বলেও জানা গেছে।
দর্শনার্থীদের হয়রানি রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার বলেন, “কারাগারকে একটি মানবিক ও সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। বন্দিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কারাগারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো বিষয়ে তথ্য প্রদানে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। সব মিলিয়ে, মাগুরা জেলা কারাগারে প্রশাসনিক সংস্কার, মানবিক উদ্যোগ এবং সেবার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন