রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসটিতে থাকা যাত্রীদের বেশিরভাগই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রিয়জনের মরদেহ নিতে এসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই আহাজারি করতে থাকেন স্বজনেরা।
এ সময় কথা হয় ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীদের একজন মো. রাজিব সরদারের সঙ্গে।
তিনি জানান, গোয়ালন্দের জামলতা এলাকা থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে উঠেছিলেন তিনি। বসেছিলেন বাসের একেবারে পেছনের দিকের একটি আসনে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির সব আসনেই যাত্রী ছিল বলে জানান রাজিব।
তিনি জানান, ফেরিতে উঠতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে জায়গা না পাওয়ায় পন্টুনের সামনেই পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী বাসটি। জানালা দিয়ে পরের ফেরিটি ঘাটে ভিড়তেও দেখেছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, “কিন্তু কী যে হলো, কিছুই বুঝতে পারিনি। বাসটা হঠাৎ টান দিয়ে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। আমার গায়ের ওপর আরও কয়েকজন পড়ে যায়। আমি অনেক চেষ্টা করেও সরাতে পারছিলাম না।”
তিনি আরও বলেন, “বাস পানিতে পড়ার পর জানালা ধরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। বাসের ভেতরে নিচের দিক থেকে পানি ঢুকে যে স্রোত তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই আমি ভেসে যাই। কীভাবে যে বের হয়েছি, উপরওয়ালাই জানে।”
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। সেই সঙ্গে প্রত্যেক মরদেহ দাফনের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগেরই বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি এবং রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের আবহ। বৃহস্পতিবার সকালেই নিহত অনেকের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন