পদ্মায় পড়ে যাওয়া সোহার্দ্য পরিবহনে থাকা একই পরিবারের চারজনের মধ্যে স্ত্রী মর্জিনা (৩২) ও মেয়ে রাফিয়া আক্তার রিন্তি (১২) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত মর্জিনা গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকি পাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী ও মেয়ে রাফিয়া আক্তার সেই স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার কবরস্থানে মা-মেয়ের দাফন সম্পন্ন করা হয়। তাদের মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বেঁচে যাওয়া রেজাউল জানান, গতকাল ২৫ মার্চ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে আমি রাজবাড়ী বড় পুল থেকে আমার দুই মেয়ে, আমি ও আমার স্ত্রীসহ ঢাকা নবীনগর উদ্দেশ্যে সোহার্দ্য পরিবহন উঠি।
পরিবহনটি দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কে গেলে, ঘাটে থাকা ফেরি থেকে যানবাহন আপলোডের সুবিধার্থে সোহার্দ্য পরিবহনটি বাম পাশের সাইডে রাখা হয়।
এসময় আমার স্ত্রী আসরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।
আমার স্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, "তুমি ছোট মেয়েটিকে তোমার কাছে রাখো।"
এ সময় আমার ছোট মেয়ে নদী দেখার জন্য আমার কাছে আবদার করে। তখন আমি মেয়েটিকে নিয়ে পন্টুনে নেমে যাই। সে সময়ই চোখের পলকে আমার সামনে থেকে গাড়িটি দ্রুত গতিতে নদীতে চলে যায়। আর এতে আমার স্বপ্ন পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
আমি বলব, ঘাটের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আজ এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিন নম্বর ঘাটটি অনেক ঢালু। ঘাটে ফেরি না থাকলে বড় পরিবহনগুলো তারা কেন ঢালে নামায়, তা ঘাট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
উল্লেখ্য, এ দুর্ঘটনায় এপর্যন্ত ২৬ জন নারী-পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন