রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাস ডুবির ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম। সেইসাথে এ ধরনের দুর্ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা তিনি দেখবেন।
ঘটনার অনুসন্ধানে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দুর্ঘটনার ৫ম দিন সরেজমিন পরিদর্শনে এসে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি আরও বলেন, আমরা খুবই মর্মাহত যে আমাদের দেশে এ রকম একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
এ দুর্ঘটনায় যারা মৃত্যু বরণ করেছেন পরকালে তাদের শান্তি এবং যারা অসুস্থ আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
এর আগে ২৯ মার্চ রবিবার বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত সচিব পাটুরিয়া ঘাট হতে স্পিড বোট যোগে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌছান।
এ সময় তিনি ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে দুর্ঘটনার দিন ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের অবস্থান, নদীতে বাস নিমজ্জিত হওয়ার স্থান, পন্টুনের স্থায়িত্ব এবং ফেরিতে গাড়ি উঠানোর এপ্রোচ সড়ক এবং জিরোপয়েন্ট নামক স্থান পরিদর্শন করেন এবং জিরো পয়েন্টে গাড়ির সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন। একইসাথে জিরো পয়েন্ট হতে অন্যান্য ঘাটের সাথে যোগাযোগের যন্ত্র ওয়াকিটকি ঠিক আছে কি না তা যাচাই করেন। শেষে তিনি তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পরিদর্শন করেন।
সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। ঘটনার পর এ পর্যন্ত ২৬ টি মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসে কর্মী ও ডুবুরিরা অংশ নেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করছে। দুর্ঘটনার পর থেকে নদী তীরবর্তী এলাকা জুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সূত্র বলছে, উদ্ধার হওয়া ২৬ মরদেহের মধ্য ১৮টি'ই রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকার। এত বড় দুর্ঘটনার পর পুরো জেলা জুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে এসময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, নৌ-পুলিশ ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা, রাজবাড়ী জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সোহেল রানা, বিআইডব্লিউটিসি'র দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত মহা-ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন