রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গরম তেল নিক্ষেপ করে গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন মাসুমা বেগম (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী কন্যা মুনতাহা। বর্তমানে তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামে গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটে।
আহত মাসুমার পিতা মোঃ ওহিদুল শেখ জানান, প্রায় ৬ বছর আগে তার মেয়ে মাসুমা বেগমের সঙ্গে রশিদ খালাসী (২৬)-এর বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে মাসুমার উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার সৎ শাশুড়ি শাহিদা বেগম (৪৫), শশুর আক্তার খালাসী (৫০) ও দেবর নূর নবী (১৮)।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মাসুমা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে শাশুড়ি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে মাসুমা রান্নাঘর থেকে বাইরে আসলে শাশুড়ি, শশুর ও দেবর মিলে তাকে উঠানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে মাসুমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে শাশুড়ি রান্নাঘর থেকে কড়াইয়ে থাকা গরম তেল এনে তার মুখে নিক্ষেপ করেন। এতে তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে বিকৃত হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
এ সময় পাশে থাকা তার ৯ মাস বয়সী শিশু কন্যা মুনতাহার শরীরেও গরম তেল ছিটকে পড়ে, সেও দগ্ধ হয়।
মা-মেয়ের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
গৃহবধূ মাসুমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমার মুখ গরম তেল দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। আমার শিশুকেও রেহাই দেয়নি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল), রাজবাড়ী দেব্রত সরকার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন