বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৯ মাসে অভূতপূর্ব সাফল্য

মামুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৯ মাসে অভূতপূর্ব সাফল্য

বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বন্দরের জন্য এক আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করলে তা একটি লাইব্রেরিতে রূপ দেওয়া যাবে বলেও অনেকে মনে করছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনামূলক পারফরম্যান্স রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

চেয়ারম্যানের দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গতিশীল ও কার্যকর টিম বন্দরের পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৭ জুলাই নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের (বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত টার্মিনালটির কর্মদক্ষতা ১২-১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্গো হ্যান্ডলিং, কন্টেইনার পরিবহন এবং জাহাজ আগমনের সংখ্যা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বন্দর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে অক্টোবর ২০২৫ মাসে পণ্য পরিবহনে রেকর্ড ২১.১১% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়া এবং জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য এসেছে।

প্রথম ৯ মাসে মোট ১০,৪২,৯৮,৬৫৮ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৩৯% বেশি।

২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কন্টেইনার পরিবহনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। আগস্টে ২০.১০% এবং সেপ্টেম্বরে ১০.২২% প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে মোট ২৫,৭২,৩৪৬ TEUs কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৭৫% বেশি।

জাহাজের গড় অবস্থানের সময় (Turnaround Time) ৪ দিন থেকে কমিয়ে ২.৫৩ দিনে নামানো হয়েছে। ফলে অক্টোবর ২০২৫-এ সর্বোচ্চ ৩৯১টি জাহাজ হ্যান্ডল করা সম্ভব হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬.০২% বেশি। 

প্রথম ৯ মাসে মোট ৩,২৩০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬২% বেশি।

অনলাইন ই-গেট পাস সিস্টেম এবং টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (TOS) চালুর ফলে কাগজপত্রের জটিলতা ও যানজট কমেছে। অনেক দিন জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে অপেক্ষা করতে হয়নি (জিরো ওয়েটিং টাইম)।

ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও বন্দর ২৪/৭ কার্যক্রম চালু রাখে। এক সপ্তাহে (১৭-২৩ মার্চ) ২৫ লাখ টন কার্গো এবং ৫৫ হাজার TEUs কন্টেইনার হ্যান্ডল করা হয়েছে।

জাহাজের অবস্থানকাল কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে বেশি সংখ্যক জাহাজ হ্যান্ডল করা সম্ভব হয়েছে, ফলে লজিস্টিক খরচ কমে পণ্যের দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিজিটাল বিলিং চালুর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ভোগান্তি কমেছে এবং যেকোনো স্থান থেকে দ্রুত পেমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে।

এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ হিসেবে কাজ করে রপ্তানি-আমদানি ও কাস্টমস কার্যক্রমকে সমন্বিত করেছে। এতে পণ্য খালাসের সময় কয়েক দিন থেকে কমে প্রায় ৩০ মিনিটে নেমে এসেছে।

এই পদ্ধতিতে জাহাজ আসার আগেই শুল্কায়ন সম্পন্ন হওয়ায় পণ্য বন্দরে পড়ে থাকতে হয় না, ফলে দ্রুত আনলোড ও ডেলিভারি সম্ভব হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলমান আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হবে।

এএন