চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম (৬৫) নামের এক অসহায় বৃদ্ধ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওই বৃদ্ধের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলস্টেশনে বসবাস করেন। প্রায় নয় দিন আগে রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে তাঁর পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এলে দুই ব্যক্তি মানবিক কারণে তাঁকে ভর্তির উদ্যোগ নেন।
বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক আহাম্মেদ জানান, ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালের বারান্দায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখে তিনি জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। দীর্ঘ ভোগান্তির পর তাঁকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ফারুক অভিযোগ করেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ওয়ার্ডে এসে দূর থেকেই রোগীকে দেখে পা কেটে ফেলার কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘দিনকাল যা হয়েছে, স্টেশন থেকে লোক তুলে এনে এখানে চিকিৎসা করাচ্ছে’।
সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা রোগীর স্বজন কনিকা বেগম বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক ওই বৃদ্ধের কাছে না গিয়ে দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে রেফার করার কথা বলেন। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন যে, ওদের মতো লোক স্টেশনে বসেই মরে। একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন অমানবিক আচরণ কাম্য নয়।’
ভুক্তভোগী নূর আলম জানান, কুকুরের কামড়ে পায়ে ক্ষত হওয়ার পর কয়েক দিন ধরে চিকিৎসা পাননি। হাসপাতালে এসেও তাঁকে অনেক সময় এদিক-ওদিক ঘুরতে হয়েছে। পরে সাধারণ মানুষের সহায়তায় তিনি ভর্তি হতে পেরেছেন।
এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, রোগীর পায়ের ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং দেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবা বিভাগ থেকে ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান। অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো সদুত্তর দেননি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন