বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর করে টিকটক ভিডিও তৈরির অভিযোগ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর করে টিকটক ভিডিও তৈরির অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে একাধিক উশৃঙ্খল বিদায়ী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে টিকটকের জন্য ভিডিও ধারণ করেছে। ওই টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উপজেলার বাগধা (দাসপাড়া) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ৫২ জন পরীক্ষার্থীর বিদায় অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বিদায়ী ৫ শিক্ষার্থী সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সুইচ অন করে বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে পাখা ধরে ঝুলে ফ্যানের পাখা দুমড়ে-মুচড়ে বাঁকা করে এবং দৌড়ে এসে ফ্লাইং কিক (লাথি) দিয়ে শ্রেণিকক্ষের অসংখ্য বেঞ্চ তছনছ করে ফেলে দেয়। এসময় তাদের সাথে থাকা সহপাঠীরা এ দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তারা ওই ভিডিও দিয়ে টিকটক তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে। অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকাবাসীর দৃষ্টিতে আসে এবং এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভিডিও দেখে ৫ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে। উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, এই বিদ্যালয়ের বিদায়ী ছাত্র চাঁদত্রিশিরা গ্রামের খোকন মীরের ছেলে ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র নুর মোহাম্মদ, মো. রাসেল বক্তিয়ারের ছেলে আসিফ বক্তিয়ার, মো. জামাল সরদারের ছেলে সিয়াম সরদার, মো. এমদাদুল মিয়ার ছেলে মো. আকাশ মিয়া এবং খাজুরিয়া গ্রামের বজলুল হকের ছেলে সহিবুল হক সম্রাট।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সভা করেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ৫ শিক্ষার্থী আত্মগোপনে থাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত সহিবুল হক সম্রাট বলেন, “বিদায় অনুষ্ঠান শেষে আমরা কয়েকজন সহপাঠী মিলে টিকটকের ভিডিও করেছি। তখন বুঝতে পারিনি। এখন বুঝেছি কাজটি করা আমাদের ঠিক হয়নি।”

সহপাঠী আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে সহপাঠীরা তৃতীয় তলায় গিয়ে বিদ্যালয়ের ফ্যান ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কাজটি ভালো হয়নি।

সাবেক শিক্ষার্থী রাব্বি হাওলাদার বলেন, “এই বিদ্যালয়টি আমাদের আস্থা-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা। যারা বিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছে, এলাকাবাসী তাদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার।”

শিক্ষক মো. কাওসার মেহেদী ও দিপংকর হাওলাদার বলেন, “আমাদের শিক্ষক জীবনে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত।”

ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মিয়া রিপন বলেন, “বিদায় অনুষ্ঠানের পর ছাত্ররা যে ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে তাদের বিচারের আওতায় আনবো।”

প্রধান শিক্ষক নিয়াজ মোশেদ বলেন, “আমি বিদায় অনুষ্ঠানের দিন উপজেলা সদরে জরুরি কাজে ছিলাম। পরে এসে বিষয়টি জানতে পারি। ভিডিও দেখে ৫ জন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিভাবকদের ডেকে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “ঘটনাটি জানার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডাকা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্রের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।”

এএন