রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নারী শিক্ষককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেন দাওকান্দি এলাকার বিএনপি নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, বহিষ্কৃত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইউজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ হয়েছে, এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাদের দাবি, ওইদিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।
আব্দুস সামাদ বলেন, কিছু গণমাধ্যম তাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজের অনিয়ম-দুর্নীতির জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা তাদের ওপর হামলা চালান।
তিনি বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামা হবে।”
আকবর আলী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলেন না। ভিডিও ফুটেজেও তাকে দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। এরপরও কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন