গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক ও খামারিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ৭-৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।
চাপাইর এলাকার পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, আবার গরমে ফ্যান না চলায় মনোযোগও ধরে রাখা যায় না।”
অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কিনতে পারে না। গ্রামের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।”
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারেও দেখা দিয়েছে সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকাগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, রান্নাবান্নাতেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।
কালিয়াকৈর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আকবর জানান, উপজেলায় ১২টি কেন্দ্রে মোট ৭ হাজার ৬ জন শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, “পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে রাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন