রাউজানে গভীর রাতে প্রবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
রাউজানে গভীর রাতে প্রবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা
রাউজানে নিহত কাউসারুজ্জামান

চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলায় এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আলিখিল গ্রামে শনিবার ভোররাতের দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম কাউসারুজ্জামান (৩৬)। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জানা যায়, নানাবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মামাতো ভাই আশরাফুর রহমানকে নিয়ে নিজ বাড়ির পথে ফিরছিলেন কাউসারুজ্জামান। বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১০–১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের ঘিরে ফেলে।

জীবন বাঁচাতে দুজনই দৌড় দেন। এ সময় পেছন থেকে গুলি চালানো হলে একটি গুলি কাউসারুজ্জামানের পিঠে লাগে এবং তা ভেদ করে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও ভোর হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, দেশে ফেরার পর থেকেই কাউসারুজ্জামান এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন। এই ‘তথ্যদাতা’ ভূমিকার কারণেই তিনি সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হন।

নিহতের বাবা আবুল কালামের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাউসারুজ্জামান ভিডিও ধারণ করেন। এরপর থেকেই তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের ধারণা, ওই ভিডিও এবং তার অপরাধবিরোধী অবস্থানই হত্যার মূল কারণ।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় ২০ মাসে রাউজান এলাকায় অন্তত ২২ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পরিচয়ের ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—

সাবেক সংসদ সদস্যের খামারবাড়ির কর্মচারী মুহাম্মদ ইউসুফ
শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান
যুবদল কর্মী আলমগীর আলম ও মুহাম্মদ সাইফুল
সর্বশেষ প্রবাসী কাউসারুজ্জামান

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বালু-মাটি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু করা হয়েছে। নিহতের বাবা ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দুই কন্যাশিশু এখনও বুঝে উঠতে পারছে না তাদের বাবা আর ফিরবেন না।

নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আমার ভাই কারও ক্ষতি করেনি। সে শুধু চেয়েছিল এলাকায় সন্ত্রাস বন্ধ হোক। যদি সত্য বলার কারণে মানুষ খুন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

কাউসারুজ্জামানের হত্যাকাণ্ড স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অপরাধবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণে প্রাণ না হারায়।

এম জি