লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের মাহমুদুর রহমানের ছেলে সামছুল হক। প্রায় এক মাস আগে, বৃদ্ধ মা, সংসারের চাহিদা এবং দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ যোগাতে প্রতিদিনের মতো গাছ কাটার কাজে বের হন ৫৪ বছর বয়সী সামছুল হক। কিন্তু হঠাৎই নেমে আসে পুরো পরিবারের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সামছুল অসুস্থ হয়ে পড়ায় খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন পরিবারটি।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল পাশের চিনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে গাছ কাটার কাজে যান সামছুল হক। এ সময় হঠাৎ রশি ছিঁড়ে গাছটি তার শরীরের ওপর পড়ে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, গাছের চাপায় তার একটি কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ছয় দিন চিকিৎসার পর অর্থের অভাবে পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ডাক্তার জানিয়েছেন, সামছুলের নষ্ট হওয়া কিডনি অপসারণ করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। তাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সামছুলের স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা।
সামছুল হকের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে ও বৃদ্ধা মা রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বড় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ের পড়াশোনায় প্রভাব পড়েছে।
বড় ছেলে মঞ্জুরুল আলম ট্রাকের হেলপার। বাবার সেবা করে দিনরাত কাটছে তার। এক মাস ধরে তিনি কাজেও যেতে পারছেন না। বাবার কিডনি নষ্ট হওয়ায় সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে গেলেও আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামছুল হকের জীবন বাঁচাতে সমাজের স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিত্তশালী ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী আবেদন করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, অসহায় সামছুলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন